সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঘুরে আসুন মক্কা মদীনা। সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সব নিদর্শন ও শেষ নবীর জন্মস্থান। কিভাবে শুরু করবেন

 



অনেক দিনের স্বপ্ন এই মক্কা মদীনা। যা মুসলমান বলতেই বিদ্যমান। প্রতিদিন যে কাবাকে সামনে রেখে নামাজ পড়েন সেই কাবাকে সামনে পাওয়া সত্যিই আনন্দের।

যেখানে যেখানে ঘুরবেনঃ
-;-;-;-;-;+;-মক্কায়ঃ-;--;-;-;-;--;-;-;-;--;

দর্শনীয় স্থানঃ
-------হারাম শরীফের কাছেঃ-------
১। রাসুল সঃ এর বাড়ীঃ
মসজীদে হারামের পাশে রাসূলের বাড়ি ছিল। যেখানে এখন লাইব্রেরী বানান হয়েছে।
২। আবু জাহেলের টয়লেটঃ
রাসূল সঃ এর বাড়ির পাশেই আবু জেহেলের বাড়ি ছিল। যেটাকে এখন টয়লেট বানান হয়েছে।
৩। জ্বীন মসজীদঃ এইখানে সূরা জীনের একাংশ নাজিল হয়। এবং এইখানে একসাথে অনেক জীন ইসলাম গ্রহন করে।
৪। জান্নাতুল মুয়াল্লাঃ মক্বার কাছে কবরস্থান। এইখানে অনেক সাহাবাসহ হাজারের উপর মক্কাবাসীর কবর। খাদিজা রাঃ, আসমা রাঃ এর কবর, আঃ ইবনে জুবায়ের রাঃ এবং আবুল কাশেমের কবর উল্লেখযোগ্য।
৫। ফাতাহ মসজীদঃ মক্কা বিজয়ের পর রাসূল সঃ এখানে ২ রাকাত নামাজ পড়েন।।


-------হারাম শরীফ থেকে দূরে-------

বাকীগুলো জিয়ারতের জন্য আপনাকে মাইক্রো অথবা টেক্সি ভাড়া নিতে হবে। টেক্সি নিলে ৭০ থেকে ৮০রিয়েল লাগবে।
(সাধারণত এজেন্সির মাধ্যমে আসলে নিচের এ জিয়ারাগুলো এজেন্সি করিয়ে থাকে।)
৬। জাবালে ছুরঃ হিজরতের রাতে রাসূল সঃ এই পাহাড়ে অবস্থান করেন আবু বকর রাঃ কে নিয়ে। এই পাহাড়ের অনেক ইতিহাস আছে গর্তে কবুতরের ডিম পাড়া, মাকড়সার বাসা ইত্যাদি...
৭। জাবালে রহমতঃ আরাফাতের ময়দানের পাহাড়। রাসূল সঃ বিদায় হজ্জ্বের ভাষন এখানেই দেন। আর পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম ও হাওয়া আঃ কে আলাদা দুই যায়গায় পাঠান হয়। তাদের সাক্ষাৎ এই আরাফাতেই হয়।
৮। মসজীদে নমিরাঃ আরাফার দিনে এই মসজীদে নামাজ পড়া সুন্নত। রাসূল সঃ আরাফাতের দিন এ মসজীদে নামাজ পড়েছিলেন। এখান থেকেই হজ্জ্বের খুৎবা দেওয়া হয়।
৯। জাবালে নূরঃ হেরা গুহা এই পাহাড়ে। রাসূল সঃ এর নিকট প্রথম ওহী নাজিল হয় এই পাহাড়ের গুহায়।
১০। মুজদালিফাঃ এখান থেকে ইসমাইল আঃ ৪৯ টা পাথর সংগ্রহ করেন শয়তানকে মারার জন্য।
এছাড়া আদম ও হাওয়া আঃ প্রথম একসাথে মুযদালিফায় রাত্রি যাপন করেন। এই কারনে হজ্জ্বের সময় এখানে রাত্রী যাপন করতে হয়।
১১। মিনাঃ এখানেই প্রথম কুরবানী শুরু হয়। ইব্রাহিম আঃ ইসমাইল আঃ কে কুরবানীর জন্য এইখানে নিয়ে আসেন। হজ্জ্বের সময় এখানে ৩/৪ দিন থাকতে হয়।
১২। জামরাঃ এইখানে শয়তানকে পাথর মারা হয়। ইসমাইল আঃ কে কুরবানীর কথা বলে শয়তান ধোকা দেয় এর জন্য ইসমাইল আঃ শয়তানকে পাথর মারেন। যে জন্য হাজীদেরকেও এখানে পাথের মারতে হয়।
এখানে ছোট জামারা, মাঝারি জামরা, ও বড় জামরা আছে।

-------হারাম শরীফ থেকে দূরে হিল ট্র্যাকিং-------

জিয়ারতের বাহিরে আপনি যদি ট্রাভেলার এবং ট্রাক্যার হন তবে নিচের কয়েকটি স্থান ভিজিট করতে পারেন।
১৩। জাবালে নুর অথবা গারে সওর। পাহাড়ে উঠে প্রথম অহী নাজিলের স্থানটি অনেকেই দেখতে চান। এজন্য আপনি একটা প্রাইভেট রিজার্ভ নিলে হারাম থেকে ২৫/৩০ রায়েল নিবে। গাড়ি থেকে নামার পর পাহাড়ের উপর উঠতে হবে। একেবারে মেইন যায়গায় পৌছাতে প্রায় ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটেরর মত লাগবে। নামতে মাত্র ৩০মিনিট। টোটাল ২ ঘন্টা ট্রাকিং। লক্ষ্য রাখতে হবে মক্কার পাহাড়গুলোতে আমাদের বান্দরবনের পাহাড়গুলোর মত গাছ পালা নেই। তাই খুব ভোরে উঠে পৌছালে সুবিধা হবে। অন্যথায় রোদ উঠে গেলে গরম লাগবে। উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফিট।
১৪। জাবালে সুরঃ
হিজরতের রাতে রাসূল সঃ এই পাহাড়ে অবস্থান করেন আবু বকর রাঃ কে নিয়ে। এই পাহাড়ের গর্ত পর্যন্ত যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রায় ৩৫০ ফুট উপরে উঠতে হবে। সময় লাগবে ৩ ঘন্টার মত। উঠতে প্রায় ২.৩০ ঘন্টা নামতে ৩০ মিনিট।


১৫। মক্কা মিউজিয়ামঃ
মক্ক মিউজিয়ামে কাবাঘরের পুনাতন সব গিলাফ কিংবা ইত্যাদি ইত্যাদি দেথতে পারবেন। যদিও তেমন বড় না।

-------হারাম শরীফ থেকে বেশ দূরে -------

৩। তায়েফঃ
টেক্সি নিয়ে তায়েফ যেতে পারেন। টেক্সিতে আপ ডাউন ৩৫০ রিয়েলের মত লাগবে।
তায়েফে ১। মসজীদে আলী ২। রাসূল সঃ কে যেখানে পাথর মারা হয়েছিল ঐ যায়গা। ২। আদ্দাস রঃ এর বাগান। ৩। বুড়ির বাড়ি যে বুড়ি রাসূলের রাস্তায় কাটা দিত।
তায়েফ গেলে একটা ওমরা করতে পারবেন। ওখানে কাছাকাছি একটা মিকাত আছেম


------------জিয়ারতে মদীনা--------------------
মক্কায় সকল কার্যক্রম শেষে আপনাকে যেতে হবে মদীনা। সাধারনত হজ্জ্বের সময় ৪০ দিনের প্যাকেজে ৩২ দিনের মত মক্কায় আর বাকি ৭/৮ দিন মদীনায় রাখবে।
মদীনায় এসে সবচেয়ে বড় কাজ হল মসজীদে নববিতে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া আর রাসূল সঃ এর রওজা যিয়ারত করা। এরপর রিয়াজুল জান্নাতে নফল নামাজ পড়া।
রওজাঃ গেট নং-১
রিয়াজুল জান্নাতঃ গেট নং- ২/৩

-------মসজীদে নববী থেকে কাছে-------
১। রাসূলের রওজাঃ
মসজীদে নববীর ১ নং গেট দিয়ে একানে ডুকতে পারবেন।
২। জান্নাতুল বাকীঃ
এইখানে প্রায় ১০ হাজার সাহাবীর কবর।
এইটা রওজার পিছনে।
৩। রিয়াজুল জান্নাহ।
এইটা রাসূলের বাড়ি ও মিম্বারের মধ্যবর্তী যায়গা। যেখানে নামাজ পড়া জান্নাতে নামাজ পড়ার মতই
এখানে ঢুকতে হলে এজেন্সির রেজিস্ট্রেশন ফর্ম লাগবে। অথবা লুসুক অ্যাপ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
৪। কোরআনের মিউজিয়ামঃ
মসজীদে নববীর ৫ নং গেট দিয়ে এখানে ডুকতে পারবেন।
৫। হারাম লাইব্রেরীঃ
মসজীদে নববীর ১০ নং গেট দিয়ে এখানে ডুকতে পারবেন।
হারাম বাউন্ডারি ৩১০ নম্বর গেট দিয়ে বের হলেই একসাথে তিনটা মসজিদ।
6। মসজিদে গামামা:
এই মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাঃ শেষ ঈদের নামাজ পড়েন এবং এই জায়গাতে ইস্তেসকার নামাজ পড়ার মাধ্যমে বৃষ্টি হয়েছিল।
7। মসজিদে আবু বকর
এই জায়গাতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বাড়ি ছিল। এবং উনি এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত করেন।
8। মসজিদে আলী ইবনে আবু তালেব
এখানে হযরত আলী রাঃ এর বাড়ি ছিল।

-------মসজীদে নববী থেকে কিছু দূরে -------
নিচের যায়গাগুলো একটা টেক্সি ভাড়া করলেই সব দেখিয়ে দিবে।

৬। কুবা মসজীদঃ

ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন মসজিদ তিনটি। মক্কার মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদে নববি ও জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা। এরপর হলো মসজিদে কুবা। আল্লাহর রাসুল (সা.) নবুওয়ত লাভের পর এটিই ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মসজিদ।
কুবা একটি বিখ্যাত কূপের নাম। সময়ের পরিক্রমায় এ কূপকে কেন্দ্র করে যে জনবসতি গড়ে উঠেছে, তাকেও কুবা বলা হতো। এরই সূত্রে মসজিদের নাম হয়ে যায় মসজিদে কুবা।

এইখানে দুই রাকাআত নামাজ পড়লে ওমরার সমান সওয়াব।

৭। কিবলাতাইন মসজীদ বা দুই কেবলার মসজীদঃ
আগে কেবলা ছিল বাইতুল মুকাদ্দাস। নবী সঃ এর দোয়ার বরকতে একবার হঠাৎ আসরের ২ রাকাত নামাজ পড়ার পর কেবলা কাবার দিকে করার ওহি নাজিল হয়। তাই পরের দুই রাকাআত রাসুল সঃ নামাজের ভিতরে কেবলা পরিবর্তন করেন সাহাবারাও তাই করেন।
মক্কাতে দুই বছর বাইতুল মুকাদ্দাসের দীপিকার নামাজ পড়েন।


৮। উহুদ পাহাড়ঃ
এইখানে উহুদের যুদ্ধ সংগঠিত হয়। রাসূল সঃ এর দন্ত মোবারাক এই যুদ্ধে শহীদ হয়। এছাড়া পাহাড়ের উপর রাসূল সঃ এর রক্ত পড়ায় এই পাহাড় লাল হয়ে যায়। অন্যান্য পাহাড় কাল রংয়ের হলেও এই পাহাড়ের রং লালচে।
৭০ জন সাহাবী শহীদ হন।
৩০০০ সাহাবী
ফলাফল যায় আসুক পাহাড় পরিবর্তন করবে না।
হানজালা প্রথম রাতে শেষ হওয়ার পর জিহাদ শহীদ । চির বিদায় নিয়ে জিহাদ চলে আসলো। বিবি দৌড় এসে বললো উনার গোসল ফরয হয়েছে। আসমান থেকে ফেরেশতারা করে দিয়েছি। দাড়ি টপ টপ করে পড়ছে।

৯। খন্দক এলাকাঃ
মুসলমান ৩ হাজার ১০ হাজার।
আবু সুফিয়ান বনু নজির বনু কুরাজা।
পরামর্শ হয় মসজিদে নববেতে।
সালমান ফারশি
তিনদিকে ওহুদ পাহাড়।
খন্দকের পাহাড়ের সামনে গর্ত খনন করা, যাতে করে কোন গড়া লাফ দিয়ে এপারে না আসতে পারে।
১০ জন করে গ্রুপ করা হলো।
পরীক্ষা খনন।
দশ হাত প্রস্তু দশ হাত গভীর।
বিশাল বড় এক পাথর।
ফাতাহ মসজিদ, সালমান ফার্সি, আবু বকর, ওমর, আলী, ফাতেমা,

এইখানে খন্তকের যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এখানে খন্দকের কোন চিহ্ন অবশিষ্ট নেই শুধু সাতটা মসজিদ রয়েছে। মসজিদে সবআ।
তুর্কি শাসন আমল এ।
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Battle_of_the_Trench
১০। সালমান ফারসির খেজুরের বাগানঃ
সালমান ফারসি রাঃ যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন গোলাম ছিলেন। তিনি যখন রাসূল সঃ এর কাছে দেখা করলেন তখন রাসূল সঃ, তার মুক্তির জন্য মালিক কি চায় তা জানতে চাইলেন। মালিক সুযোগ পেয়ে এক বস্তা স্বর্ন ও ৪০০ খেজুর গাছ ওয়ালা একটা বাগান চাইলেন। যা অসম্ভব ছির। তো রাসূল সঃ শর্তে রাজি হতে বললেন এবং মারিকের কাছ থেকে বস্তার আনতে বললেন। এরপর বস্তার ভিতর সামান্ন তোলা স্বর্ন রেখে বস্তা বন্ধি করে মালিকের কাছে দিয়ে আসতে বললেন। মালিকের সামনে খোলা হলে মালিক বস্তা ভর্তি স্বর্ন পেলেন। আর ২য় শর্ত অনুযায়ী ৪০০ চারা সংগ্রহ করা হয়। লাগানোর কয়েক ঘন্টার ভিতর রাসূলের দোয়ায় গাছ বড় হয়ে খেজুর ধরা শুরু করল। সেই বাগানটি এখনও আছে। যা সালমান ফারসির খেজুরের বাগান নামে পরিচিত।
১১। ঘার্সওয়াল:
এই কূপের পানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম খুব পছন্দ করতেন। স্বপ্নের ভিতর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এই কূপের পানি খেতে দেখেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম মৃত্যুর পর ওছিয়ত অনুযায়ী এই কূপের পানি দিয়েই উনাকে গোসল করানো হয়েছিল। এই কূপ এখনো বর্তমান এবং পানিও পান করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
১২। আলী রাঃ ও ফাতেমা রাঃ এর বাড়ি
এটাও মদিনা থেকে কাছে।

-------মসজীদে নববী থেকে বেশ দূরে -------
১৩। ওয়াদি আল জিন বা জীনের পাহাড়ঃ
এখানে ঢালু রাস্তার উল্টা দিকে সবকিছু টানে। গাড়ী নিউট্রাল করে রাখলেও গাড়ি ঢালুর দিকে না গিয়ে বরং উপরের দিকে উঠে। এছাড়া পানি ডাললে বা বোতল গড়ালে কিংবা কোন বল রাখলে ঢালুর উপরের দিকে উঠে।
এটা টেক্সিতে ৫০ রিয়ালের মত নিবে।

১৪। বদর প্রান্তরঃ
বদর মদীনা থেকে প্রায় ১৭০ কিমি দূরে। ইসলামের প্রথম যুদ্ধ এখানে হয়। মাত্র ৩১৩ জন সাহাবির সাথে ১০০০ কাফেরের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ আল্লাহ আসমান থেকে ফেরেশতা নাজিল করেন এবং যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হয়। এই যুদ্ধে ১৪ জন মুসলমান শহীদ হন। যাদের কবর বদর প্রান্তরে আছে। বদরের পাশে মদীনার দিকে একটা কুপ আছে। যার লবনাক্ত পানি রাসূলের থুতুর বরকতে মিষ্টি হয়ে যায়। পানি এখনো মিষ্টি।
বদর যেতে প্রায় ৩০০ রিয়েল নিবে টেক্সিতে।

-----সবচেয়ে বড় টুর এবং এক্সপেন্সিভ -------
খন্দক , মাদাইনে ছালেহ, কওমে শোয়েব, মুসা আ. এর ১২ টি ঝর্ণা, তাবুক ইত্যাদি।

এইটা দুই দিনের ট্যুর। প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার। এই ট্যুরে আনুমানিক খরচ হবে ৮০০ থেকে ১০০০ রিয়েল। এই টুরের শেষ গন্তব্য তাবুক যেটা জর্ডানের বর্ডার।



মক্কা মদীনা খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন যায়গা। প্রতি মুহুর্তে একে পরিষ্কার করা হয়। পানি পান করার পর বোতল অথবা খাদ্যাংশ যেখানে সেখানে না ফেলে নিদিষ্ট বিনে ফেলতে হবে। অন্যদিকে ঐতিহাসিক পাহাড়গুলোতে অনেকেই নিজের নাম লিখে নিজেও ইতিহাস হতে চান যা কখনই শোভনীয় নয়।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সোশ্যাল মিডিয়ার নোংরামি থেকে বাঁচুন

  টিকটক, ইন্সটা, ফেসবুকের সেলিব্রিটি, সেলিব্রিটি কালচার, ইনকাম কমিউনিটি এসকল কিছু থেকে বেঁচে থাকেন। ওখানের নায়ক নায়িকা মডেল কার জীবনে কত কি নির্যাতন হলো, কে ঠিক কে ভুল এসব থেকে বেঁচে থাকেন। কে কার জামাইকে নিয়ে ভাগসে, কার বউ কাকে ধোঁকা দিসে, কে কার কথা রাখে নাই, কারে কি বলসে, কে কাকে কেমনে দেখসে সব থেকে বেঁচে থাকেন।  ঠিক না ভুল জানার দরকার নেই, কে জাস্টিস পেলো বা পেলো না জানার দরকার নাই, কার প্রতি নির্যাতন হলো জানার দরকার নাই। সোশ্যাল মিডিয়ার সেলিব্রিটিজম এ থাকা মানুষ নির্লজ্জ বেহায়া বেশরম হয়। টিকটক ইন্সটা ফেবুর মিডিয়ায় পাড়ায় এসব নির্লজ্জতা, বেহায়া বেশরম কে খুব সাধারণ ভাবে দেখা হয়।  সবসময় আমার একটা নাসিহা মাথায় রাখবেন।  আল্লাহ মহাপবিত্র, সম্মানিত, নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত, সুবহানাল্লাহ। তিনি মুমিনের গায়রোতবোধ, লজ্জাশীল এবং পবিত্রতা ভালোবাসেন। যার জীবনে হায়া নেই, সম্মান নেই, লজ্জা নেই তার জীবনে আল্লাহর রহমত বরকত নেই। ওদের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকেও বিরত থাকুন। এসব নারীপুরুষদের হায়াহীন জীবনকে দেখাও গুনাহ। আর এসবের খবর রাখা, এসব নিয়ে চিন্তা করা মানে অন্তরের এসব নিলজ্জতাকে বৈধ...

শেকড় টানে ঐক্য - মোহাম্মদ আল জোবায়ের

  আসরের স্বলাত শেষ করে ইমাদ পা বাড়াল খেলার মাঠের দিকে। কিছুদূর যেতেই মাঠের কোণায় কিছু লোকের এক জটলা চোখে পড়ে। একটু এগিয়ে গিয়ে ঘটনা যা জানা গেল তা হলো – দুজন লোক একটি মুস্তাহাব আমলকে কেন্দ্র করে বাধানুবাধ বাধিয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা বেসামাল হতে পারে আঁচ করতে পেরে ইমাদ এগিয়ে গিয়ে তাদের মাঝে ঢুকে পড়ল। – “চাচাদ্বয়, আপনাদের বিষয়টার সমাধান আমি দিচ্ছি, একটু শান্ত হোন।” বলেই পাশে থাকা জুসওয়ালাকে হাঁক পাড়ে – “এই যে ভাই, তিনটা জুস দিন।” বেশ বিচক্ষণতা ও দৃঢ়তার সাথেই চাচাদের শান্ত করার চেষ্টাসমেত হাতে জুস তুলে দিয়ে বসে পড়ে সবুজ ঘাসের উপর। – “চলেন চাচাদ্বয়, জুস খেতে খেতে আমরা কথা বলি।” আচ্ছা তার আগে ছোট্ট একটা গল্প বলে নিই। জানেন, সেদিন আমার বন্ধুর সাথে কি এক আজিব ঘটনা ঘটেছে? আমার বন্ধু হিশাম, সেদিন তার দেরি হয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে সে পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করছিলো। কিন্তু কেন্দ্রের প্রধান ফটকে দারোয়ান সাহেব তাকে আটকে দেয়। কেন জানেন? (চাচাদ্বয়ের রাগ কিছুটা কমে আসছে, ঘটনা জানতে আগ্রহী হয়ে উঠছে) তার এডমিট কার্ড, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবই ঠিক ছিল। কিন্তু সমস্যা বাধলো তার কলমে। – কলমে? (বামের চাচার ...