সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সোশ্যাল মিডিয়ার নোংরামি থেকে বাঁচুন

 

টিকটক, ইন্সটা, ফেসবুকের সেলিব্রিটি, সেলিব্রিটি কালচার, ইনকাম কমিউনিটি এসকল কিছু থেকে বেঁচে থাকেন। ওখানের নায়ক নায়িকা মডেল কার জীবনে কত কি নির্যাতন হলো, কে ঠিক কে ভুল এসব থেকে বেঁচে থাকেন। কে কার জামাইকে নিয়ে ভাগসে, কার বউ কাকে ধোঁকা দিসে, কে কার কথা রাখে নাই, কারে কি বলসে, কে কাকে কেমনে দেখসে সব থেকে বেঁচে থাকেন। 


ঠিক না ভুল জানার দরকার নেই, কে জাস্টিস পেলো বা পেলো না জানার দরকার নাই, কার প্রতি নির্যাতন হলো জানার দরকার নাই।


সোশ্যাল মিডিয়ার সেলিব্রিটিজম এ থাকা মানুষ নির্লজ্জ বেহায়া বেশরম হয়। টিকটক ইন্সটা ফেবুর মিডিয়ায় পাড়ায় এসব নির্লজ্জতা, বেহায়া বেশরম কে খুব সাধারণ ভাবে দেখা হয়। 


সবসময় আমার একটা নাসিহা মাথায় রাখবেন। 


আল্লাহ মহাপবিত্র, সম্মানিত, নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত, সুবহানাল্লাহ। তিনি মুমিনের গায়রোতবোধ, লজ্জাশীল এবং পবিত্রতা ভালোবাসেন। যার জীবনে হায়া নেই, সম্মান নেই, লজ্জা নেই তার জীবনে আল্লাহর রহমত বরকত নেই।



ওদের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকেও বিরত থাকুন। এসব নারীপুরুষদের হায়াহীন জীবনকে দেখাও গুনাহ। আর এসবের খবর রাখা, এসব নিয়ে চিন্তা করা মানে অন্তরের এসব নিলজ্জতাকে বৈধতা দেয়া। 


বহু ভাইবোনকে এসবে সময় নষ্ট করতে, ওমক তোমকে ইস্যুর ভিডিও দেখে মন্তব্য করে পক্ষ বিপক্ষ নিতে। নর্দমায় গোসলের আশায় ডুব দিলে ভিজবেন ঠিকই, কিন্তু পবিত্রতা আসবে না।


তাই সম্মানিত, পবিত্র, হায়াপূর্ণ জীবনের দুআ করুন, অপেক্ষা করুন। চোখের হক আদায় করুন, যা আল্লাহ অপছন্দ করেন তা চোখ দিয়ে দেখে অন্তরের আশ্রয় দেয়া থেকে বিরত রাখুন...


------ 


আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাড়িয়ে পাঁচটি কথা বললেনঃ (১) আল্লাহ কখনো নিদ্রা যান না। (২) নিদ্রিত হওয়া তার সাজেও না। (৩) তিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে মীযান (দাড়িপাল্লা) নামান এবং উত্তোলন করেন। (৪) দিনের পূর্বেই রাতের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয়। রাতের পূর্বেই দিনের সকল আমল তার কাছে পেশ করা হয়। (৫) তিনি নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত। আবূ বকর (রাযিঃ)-এর আরেক বর্ণনায় لنُّورُ (আলো) এর পরিবর্তে النَّارُ (আগুন) শব্দের উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি সে আবরণ খুলে দেয়া হয়, তবে তার নূরের আলোচ্ছটা সৃষ্টি জগতের দৃশ্যমান সব কিছু ভস্ম করে দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪২ ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৫৩), সহীহ মুসলিম- হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ৩৩৪, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৭৯



লজ্জা বলতে আমরা সাধারণত মানুষে মানুষে পারস্পরিক লজ্জার কথাই বুঝি। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সন্দেহ নেই, কিন্তু নবী মুহাম্মাদ সা. আমাদেরকে লজ্জাশীলতার এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে যথাযথ লজ্জা অবলম্বন করো। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আলহামদু লিল্লাহ, আমরা লজ্জা অবলম্বন করি। নবীজি সা. তখন বললেন, ‘আমি তো এটা বলিনি। বরং আল্লাহর সঙ্গে যথাযথ লজ্জা হবে এমন; তুমি মাথা হেফাজত করবে, মাথা যা কিছু ধারণ করে তাও হেফাজত করবে, পেট হেফাজত করবে, পেট সংলগ্ন যা কিছু আছে তাও হেফাজত করবে, আর মৃত্যুকে স্মরণ করবে, স্মরণ করবে (মৃত্যু পরবর্তী সময়ে) চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটিতে মিশে যাওয়াকেও। আর যে পরকাল কামনা করে সে তো দুনিয়ার জৌলুস বর্জন করে। এগুলো যে করতে পারল সেই আল্লাহর সঙ্গে যথাযথ লজ্জা অবলম্বন করল। (তিরমিজি হাদিস ২৪৫৮)


প্রতিটি দ্বীনের জন্য উত্তম চরিত্র রয়েছে, আর ইসলামের উত্তম চরিত্র হল, লজ্জা।[ইবনে মাজাহ: ৪১৮১]


লজ্জা ঈমানের অঙ্গ, আর ঈমানদারের স্থান জান্নাত। নির্লজ্জতা দুশ্চরিত্রের অঙ্গ, আর দুশ্চরিত্রের স্থান জাহান্নাম। (তিরমিজি হাদিস ২০০৯)।


“যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তাহলে তুমি যা ইচ্ছা তাই কর। (সহিহ বুখারী- ৩৪৮৪)


পরবর্তী পোস্ট এ আমরা সবশেষের হাদীস টা নিয়ে একটি ঘটনা শুনব ইন শা আল্লাহ।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঘুরে আসুন মক্কা মদীনা। সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সব নিদর্শন ও শেষ নবীর জন্মস্থান। কিভাবে শুরু করবেন

  অনেক দিনের স্বপ্ন এই মক্কা মদীনা। যা মুসলমান বলতেই বিদ্যমান। প্রতিদিন যে কাবাকে সামনে রেখে নামাজ পড়েন সেই কাবাকে সামনে পাওয়া সত্যিই আনন্দের। যেখানে যেখানে ঘুরবেনঃ -;-;-;-;-;+;-মক্কায়ঃ-;--;-;-;-;--;-;-;-;--; দর্শনীয় স্থানঃ -------হারাম শরীফের কাছেঃ------- ১। রাসুল সঃ এর বাড়ীঃ মসজীদে হারামের পাশে রাসূলের বাড়ি ছিল। যেখানে এখন লাইব্রেরী বানান হয়েছে। ২। আবু জাহেলের টয়লেটঃ রাসূল সঃ এর বাড়ির পাশেই আবু জেহেলের বাড়ি ছিল। যেটাকে এখন টয়লেট বানান হয়েছে। ৩। জ্বীন মসজীদঃ এইখানে সূরা জীনের একাংশ নাজিল হয়। এবং এইখানে একসাথে অনেক জীন ইসলাম গ্রহন করে। ৪। জান্নাতুল মুয়াল্লাঃ মক্বার কাছে কবরস্থান। এইখানে অনেক সাহাবাসহ হাজারের উপর মক্কাবাসীর কবর। খাদিজা রাঃ, আসমা রাঃ এর কবর, আঃ ইবনে জুবায়ের রাঃ এবং আবুল কাশেমের কবর উল্লেখযোগ্য। ৫। ফাতাহ মসজীদঃ মক্কা বিজয়ের পর রাসূল সঃ এখানে ২ রাকাত নামাজ পড়েন।। -------হারাম শরীফ থেকে দূরে------- বাকীগুলো জিয়ারতের জন্য আপনাকে মাইক্রো অথবা টেক্সি ভাড়া নিতে হবে। টেক্সি নিলে ৭০ থেকে ৮০রিয়েল লাগবে। (সাধারণত এজেন্সির মাধ্যমে আসলে নিচের এ জিয়ারাগুলো এজেন্সি করিয়ে থাকে।) ৬...

শেকড় টানে ঐক্য - মোহাম্মদ আল জোবায়ের

  আসরের স্বলাত শেষ করে ইমাদ পা বাড়াল খেলার মাঠের দিকে। কিছুদূর যেতেই মাঠের কোণায় কিছু লোকের এক জটলা চোখে পড়ে। একটু এগিয়ে গিয়ে ঘটনা যা জানা গেল তা হলো – দুজন লোক একটি মুস্তাহাব আমলকে কেন্দ্র করে বাধানুবাধ বাধিয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা বেসামাল হতে পারে আঁচ করতে পেরে ইমাদ এগিয়ে গিয়ে তাদের মাঝে ঢুকে পড়ল। – “চাচাদ্বয়, আপনাদের বিষয়টার সমাধান আমি দিচ্ছি, একটু শান্ত হোন।” বলেই পাশে থাকা জুসওয়ালাকে হাঁক পাড়ে – “এই যে ভাই, তিনটা জুস দিন।” বেশ বিচক্ষণতা ও দৃঢ়তার সাথেই চাচাদের শান্ত করার চেষ্টাসমেত হাতে জুস তুলে দিয়ে বসে পড়ে সবুজ ঘাসের উপর। – “চলেন চাচাদ্বয়, জুস খেতে খেতে আমরা কথা বলি।” আচ্ছা তার আগে ছোট্ট একটা গল্প বলে নিই। জানেন, সেদিন আমার বন্ধুর সাথে কি এক আজিব ঘটনা ঘটেছে? আমার বন্ধু হিশাম, সেদিন তার দেরি হয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে সে পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করছিলো। কিন্তু কেন্দ্রের প্রধান ফটকে দারোয়ান সাহেব তাকে আটকে দেয়। কেন জানেন? (চাচাদ্বয়ের রাগ কিছুটা কমে আসছে, ঘটনা জানতে আগ্রহী হয়ে উঠছে) তার এডমিট কার্ড, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবই ঠিক ছিল। কিন্তু সমস্যা বাধলো তার কলমে। – কলমে? (বামের চাচার ...